ইসলাম ধর্ম

হিজরি নববর্ষ ও আশুরা

হিজরি সন ইসলাম ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কৃষ্টি-কালচার ও ইতিহাস ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত। হিজরি বছরের প্রথম মাস মহররম। মহররম মাসের ১০ তারিখ পবিত্র আশুরার রয়েছে আলাদা মর্যাদা ও তাৎপর্য। এসব বিষয় নিয়ে আমাদের বিশেষ আয়োজন।

হিজরি নববর্ষ

ইতিবৃত্ত : প্রাচীন আরবে সুনির্দিষ্ট কোনো সন প্রথা প্রচলিত ছিল না। বিশেষ ঘটনার নামে বছরগুলোর নামকরণ করা হতো। যেমন- বিদায়ের বছর, অনুমতির বছর, হস্তীর বছর ইত্যাদি । ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.) যখন খেলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, তখন নতুন নতুন রাষ্ট্র ও ভূখণ্ড ইসলামি খেলাফতের অন্তর্ভুক্ত হয়।

এক পর্যায়ে হজরত উমর (রা.) সাহাবায়ে কেরাম ও অন্য শীর্ষ পর্যায়ের জ্ঞানী-গুণীদের নিয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেন । এই সভায় হিজরতের বছর থেকে সন গণনার পরামর্শ দেন হজরত আলী (রা.)। সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়, হিজরতের ১৬ বছর পর ১০ জমাদিউল আউয়াল মুতাবিক ৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দে।

তৎকালে আরবে অনুসৃত প্রথা অনুযায়ী, পবিত্র মহররম মাস থেকে ইসলামি বর্ষ শুরু (হিজরি সনের শুরু) করার ও জিলহজ মাসকে সর্বশেষ মাস হিসেবে নেওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন হজরত উসমান (রা.)। অর্থাৎ হযরত মোহাম্মদ (স.)-এর হিজরতের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই হিজরি সনের শুভ সূচনা হয় । আরবি ১২ মাসের নাম মহররম, সফর, রবিউল আউয়াল, রবিউস সানি, জমাদিউল আউয়াল, জমাদিউস সানি, রজব, শাবান, রমজান, শাওয়াল, জিলক্বদ, জিলহজ।

মহররম ও আশুরা

মহররম হলো ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস। পবিত্রতম মাসের মধ্যে একটি । মহররম শব্দটি আরবি যার অর্থ পবিত্র, সম্মানিত । প্রাচীনকাল থেকে মহররম মাস পবিত্র মাস হিসেবে গণ্য। আরবি ‘আশারা’ হচ্ছে দশ। সেই ‘আশারা’ থেকেই এসেছে ‘আশুরা’ তথা মহররম মাসের দশ তারিখ । পৃথিবীতে মহররমের দশ তারিখে সংঘটিত হয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি।

মহররম ও আশুরার গুরুত্ব

একবার এক ব্যক্তি রাসুল (স.)-এর দরবারে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসুল, আমরা রমজানের পর সবচেয়ে বেশি রোজা রাখব কোন মাসে? তিনি বললেন, তোমরা যদি রমজানের পর কোনো মাসে রোজা রাখতে চাও, তাহলে মহররম মাসে রাখো।

আশুরার দিনের ঘটনাবলি

  • হজরত আদম (আ.)-এর সৃষ্টি, স্থিতি, উত্থান ও অবনমন ।
  • হজরত নুহ (আ.)-এর নৌযানের যাত্রারম্ভ ও বন্যাবস্থার সমাপ্তি ।
  • হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর জন্ম, ‘খলিলুল্লাহ’ উপাধিতে ভূষিত
  • নমরুদের অগ্নিকুণ্ড থেকে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মুক্তি।
  • হজরত ইউনুছ (আ.)-এর মাছের পেট থেকে মুক্তি ।
  • হজরত দাউদ (আ.)-এর জালুত বাহিনীর ওপর বিজয় ।
  • হজরত আইয়ুব (আ.)-এর ১৮ বছর অসুস্থতার পর রোগমুক্তি।

রাসুল (স.) যখন মদিনায় আগমন করলেন তখন দেখলেন যে, ইয়াহুদিরা আশুরার রোজা পালন করে। তখন তিনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমরা এ দিনে কেন রোজা রাখো? তারা বলল, এটা এক মহান দিন। এ দিনে আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা (আ.) ও তার জাতিকে নাজাত দেন এবং ফিরাউন ও তার জাতিকে (সমুদ্রে ডুবিয়ে ধ্বংস করেন।

তাই মুসা (আ.) ও তার জাতি এদিনে আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের উদ্দেশ্যে রোজা রাখেন; এ জন্যে আমরাও রাখি । রাসুল (স.) বললেন, ‘আমরা (তোমাদের অপেক্ষা) মুসা (আ.)-এর অনুসরণ করার বেশি হকদার।’ এরপর তিনি আশুরার রোজা রাখেন এবং সাহাবাগণকেও রোজা রাখার জন্য নির্দেশ দেন ৷

আশুরা ও কারবালা

৬১ হিজরির ১০ই মহররম রাসুল (স.)-এর দৌহিত্র, ইমাম হোসাইন (রা.) আশুরার দিনে অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ইয়াজিদের সৈন্য বাহিনীর হাতে কারবালার প্রান্তরে শাহাদাত বরণ করেন। ইমাম হোসাইন (রা.)-এর ফোরাতের তীরে কারবালার প্রান্তরে আত্মদান মূলত অসত্য, অসুন্দর, অন্যায় ও অকল্যাণের বিরুদ্ধে সত্য-সুন্দর-ন্যায় ও কল্যাণের অনন্তকালের জন্য আদর্শিক বিজয়ের চেতনা। কারবালার চেতনা অন্যায়ের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের চেতনা।

আশুরার দিনে করণীয়

আশুরার দিন রোজা রাখা : হজরত আবু কাতাদাহ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (স.) বলেছেন, ‘আশুরার দিনের রোজার দ্বারা আমি আল্লাহর কাছে বিগত বছরের গুনাহ মাফের আশা রাখি।’ (মুসলিম)

ক্ষমার ঘোষণা : রাসুল (স.) ইরশাদ করেন, ‘মহররম হলো আল্লাহ তাআলার (কাছে একটি মর্যাদার) মাস। এই মাসে এমন একটি দিন আছে, যাতে তিনি অতীতে একটি সম্প্রদায়কে ক্ষমা করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অপরাপর সম্প্রদায়কে ক্ষমা করবেন।’ (তিরমিজি)

ত্যাগ ও কুরবানির শিক্ষা গ্রহণ : দ্বীন ও ইসলামের কল্যাণে ইমাম হুসাইন (রা.)-এর জীবন থেকে আত্মত্যাগের শিক্ষা = গ্রহণ করা সব মুসলমানের জন্য একান্ত করণীয়

  • হজরত ঈসা (আ.)-এর আসমানে উত্থান।
  • হজরত সোলায়মান (আ.)-এর পুনরায় রাজত্ব ফিরে পাওয়া
  • ফেরাউনকে তার দলবলসহ সাগরে ডুবিয়ে মারা
  • হজরত মুসা (আ.) তুর পাহাড়ে আল্লাহর সঙ্গে কথা বলা
  • ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তার সঙ্গীদের ইয়াজিদের সৈন্য কর্তৃক কারবালার প্রান্তরে নির্মমভাবে শাহাদাত বরণ ।

Bcs Preparation

BCS Preparation provides you with course materials and study guides for JSC, SSC, HSC, NTRCA, BCS, Primary Job, Bank and many other educational exams.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button