খেলাধুলা

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২২ : ফুটবল বিশ্বকাপ সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য

বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই এক বৈশ্বিক মেলবন্ধন। অর্থাৎ বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য। ২০ নভেম্বর ২০২২ মরুর দেশ কাতারে দ্য গ্রেটেস্ট শাে অন আর্থের পর্দা উঠবে ।

স্বাগতিক কাতার
সময়কাল ২০ নভেম্বর-১৮ ডিসেম্বর ২০২২
দল ৩২
ভেন্যু ৮টি (৫টি শহরে)
ম্যাচ ৬৪টি
থিম সং Hayya Hayya (Better Together)
কন্ঠশিল্পী আয়েশা (কাতার), ডাভিদো (নাইজেরিয়া) ও ত্রিনিদাদ কার্ডোনা (যুক্তরাষ্ট্র)।
মাসকট La’eeb
বল আল রিহলা (AI Rihla)।

বিশ্বকাপের ৮ গ্রুপ

গ্রুপ দল
A কাতার, ইকুয়েডর, সেনেগাল ও নেদারল্যান্ডস
B ইংল্যান্ড, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েলস
C আর্জেন্টিনা, সৌদি আরব, মেক্সিকো ও পােল্যান্ড
D ফ্রান্স, ডেনমার্ক, তিউনিসিয়া ও অস্ট্রেলিয়া
E স্পেন, জার্মানি, জাপান ও কোস্টারিকা
F বেলজিয়াম, কানাডা, মরক্কো ও ক্রোয়েশিয়া
G ব্রাজিল, সার্বিয়া, সুইজারল্যান্ড ও ক্যামেরুন
H পর্তুগাল, ঘানা, উরুগুয়ে ও দক্ষিণ কোরিয়া

গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ

উদ্বোধনী ম্যাচ ২০ নভেম্বর আল-বায়েত স্টেডিয়াম
কোয়ার্টর ফাইনাল ৯ ডিসেম্বর এডুকেশন সিটি স্টেডিয়াম ও  লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়াম
১০ ডিসেম্বর আল-বায়েত স্টেডিয়াম ও আল-তুমামা স্টেডিয়াম
সেমিফাইনাল ১৩ ডিসেম্বর লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়াম
১৪ ডিসেম্বর আল-বায়েত স্টেডিয়াম
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ ১৭ ডিসেম্বর খলিফা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম
ফাইনাল ১৮ ডিসেম্বর লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়াম

প্রথম নারী রেফারি

এবারের বিশ্বকাপে ৩৬ জন রেফারি, ৬৯ জন সহকারী রেফারি ও ২৪ জন ভিডিও ম্যাচ অফিশিয়াল নিয়ােগ দেওয়া হয়। এদের মধ্যে ৩ জন নারী রেফারি ও ৩ জন সহকারী নারী। তিনজন মূল রেফারি হলেন ফ্রান্সের রেফারি স্টেফানি ফ্র্যাপার্ট, রুয়ান্ডার সালিমা মুকানসাঙ্গা ও জাপানের ইয়ােসিমি ইয়ামাশিতা।

আরো পড়ুন : সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (CEPA)’র সাতকাহন

ব্যয়বহুল বিশ্বকাপ

প্রথাগত জুন-জুলাইয়ের বাইরে ও মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম বিশ্বকাপ হওয়ায় এবারের আসর নিয়ে আলােচনা অনেক বেশি। খরচের হিসাব তাে চোখ কপালে তােলার মতাে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির স্টেডিয়াম-অবকাঠামাে নির্মাণ, বিলাসবহুল হােটেলে আবাসন ব্যবস্থা, দলগুলাের অনুশীলন, ম্যাচ আয়ােজন, নিরাপত্তা, করােনা নিয়ন্ত্রণ এমন নানা দিক মিলিয়ে খরচ হবে ২২,৬৪,০০০ কোটি টাকা। আগের ২১ বিশ্বকাপ আয়ােজনেও এত খরচ হয়নি।

বিশ্বকাপ সাল খরচ (কোটি টাকা)
কাতার ২০২২ ২২,৬৪,০০০
ব্রাজিল ২০১৪ ১,৫৪,০০০
রাশিয়া ২০১৮ ১,১৮,০০০

হ্যান্ড অব গড জার্সি

২ অক্টোবর ২০২২ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দোহাভিত্তিক কাতার অলিম্পিক ও স্পাের্টস জাদুঘরে এক প্রদর্শনী চালু হয়। সেই প্রদর্শনীতে দেখানাে হয় আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগাে ম্যারাডােনার ‘হ্যান্ড অব গড’ জার্সিটি। প্রদর্শনী ১ এপ্রিল ২০২৩ পর্যন্ত চলবে। এই জার্সি পরেই ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধের ছয় মিনিটে হাত দিয়ে গােল করে ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দেন ম্যারাডােনা। যা ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল নামেও পরিচিত। ‘হ্যান্ড অব গড’ জার্সিটি ঐ ম্যাচ শেষে ইংলিশ মিডফিল্ডার স্টিভ হজের সঙ্গে অদলবদল করেন। ২০০২ সাল থেকে যা ইংল্যান্ডের জাতীয় জাদুঘরে ছিল। ২০২২ সালের এপ্রিলে জার্সিটি নিলামে ৮৯,৩০,০০০ মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়।

শেষ বিশ্বকাপ যাদের

লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনা এ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া আর্জেন্টিনা
ক্রিস্টিয়ানাে রােনালদো পর্তুগাল টমাস মুলার জার্মানি
করিম বেনজেমা ফ্রান্স লুকা মদ্রিচ ক্রোয়েশিয়া
লুইস সুয়ারেজ উরুগুয়ে মার্কো রিউস জার্মানি
থিয়াগাে সিলভা ব্রাজিল এডিনসন কাভানি উরুগুয়ে

মুসলিম দেশ

কাতার বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে ৬ মুসলিম দেশ- কাতার, সৌদি আরব, ইরান, মরক্কো, তিউনিসিয়া ও সেনেগাল।

নেই যারা

২০১৮ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেললেও ২০২২ সাল থেকে বাদ পড়েছে যেসব দেশ- রাশিয়া, নাইজেরিয়া, মিসর, পেরু, আইসল্যান্ড, সুইডেন, পানামা ও কলম্বিয়া।

আরো পড়ুন : নোবেল পুরস্কার ২০২২ বিজয়ীদের তালিকা

খেলা হবে যে স্টেডিয়ামে

কাতার বিশ্বকাপ ফুটবলের ৬৪টি খেলা অনুষ্ঠিত হবে ৫টি শহরের ৮টি স্টেডিয়ামে।

নাম অবস্থান ম্যাচ
লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়াম লুসাইল ১০
আল-বায়েত স্টেডিয়াম আল খাের
স্টেডিয়াম ৯৭৪ দোহা
আল-তুমামা স্টেডিয়াম দোহা
এডুকেশন সিটি স্টেডিয়াম দোহা
আহমেদ বিন আলী স্টেডিয়াম উম আল আফেই
খলিফা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম দোহা
আল-জানােব স্টেডিয়াম আল ওয়ারাহ

রেকর্ডে কাতার বিশ্বকাপ

  • মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে প্রথম বিশ্বকাপ।
  • এশিয়াতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বিশ্বকাপ (প্রথম ২০০২ সালে দ. কোরিয়া ও জাপানে)।
  • আরব বিশ্বে প্রথম বিশ্বকাপ।
  • মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম বিশ্বকাপ ।
  • নভেম্বর-ডিসেম্বরে হতে যাওয়া প্রথম বিশ্বকাপ।
  • এবারই প্রথম বিশ্বকাপ হবে যেখানে এক স্টেডিয়াম থেকে অন্য স্টেডিয়ামে যেতে মাত্র এক ঘণ্টা সময় লাগবে।

প্রাইজমানি

কাতার বিশ্বকাপের মােট প্রাইজমানি ৪৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রত্যেক দলে মিলিয়ন ডলার ভাগ হবে এভাবে-

  • ৪২ : চ্যাম্পিয়ন দল
  • ৩০ : রানার্স আপ দল
  • ২৭ : তৃতীয় স্থান অধিকারী দল
  • ২৫ : চতুর্থ স্থান অধিকারী দল
  • ১৭ : কোয়ার্টার ফাইনালে বাদ পড়া ৪ দল
  • ১৩ : দ্বিতীয় রাউন্ডে বাদ পড়া ৮ দল
  • ০৯ : গ্রুপ পর্বে বাদ পড়া ১৬ দল

কাতারে সরকারি ছুটি

বিশ্বকাপের সময় বন্ধ থাকবে কাতারের সব সরকারি অফিস। ১ নভেম্বর-১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮০% সরকারি কর্মীকে দপ্তরে যেতে হবে না। তাদের কাজ করতে হবে বাড়ি থেকে। যাদের দপ্তরে না গেলেই নয়, শুধু তারাই গিয়ে কাজ করবেন। বিশ্বকাপের সময় বন্ধ রাখা হবে দেশের সমস্ত বিদ্যালয়। ১-১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ক্লাস হবে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। ১৮ নভেম্বর-২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে সব বিদ্যালয় ।

আরো পড়ুন : মিখাইল গর্বাচেভের উত্থান-পতন

পরিসংখ্যানে ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল (১৯৩০-২০১৮)

প্রথম যা কিছু

বিশ্বকাপ ১৯৩০
স্বাগতিক দেশ উরুগুয়ে
ম্যাচ ফ্রান্স-মেক্সিকো; মন্টেভিডিও; ১৩ জুলাই ১৯৩০
গােল লুসিয়েন লরেন্থ (ফ্রান্স); বিপক্ষ মেক্সিকো; ১৩ জুলাই ১৯৩০
ম্যাচ জয়ী ফ্রান্স (৪-১); ১৩ জুলাই ১৯৩০
চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে
পেনাল্টি শট নেন কার্লোস ভিদাল (চিলি); বিপক্ষ ফ্রান্স; ১৯৩০
পেনাল্টি সেভ আলিক্সিস থিপট (ফ্রান্স); বিপক্ষ চিলি; ১৯৩০
পেনাল্টি থেকে গােল ম্যানুয়েল রোজাস (মেক্সিকো); বিপক্ষ আর্জেন্টিনা; ১৯৩০
বহিষ্কৃত খেলােয়াড় প্লাসিডাে গালিন্দো (পেরু); বিপক্ষ রােমানিয়া; ১৪ জুলাই ১৯৩০
ইনজুরির কারণে বদলি খেলােয়াড় অ্যালিক্সিস থিপট (ফ্রান্স); ১৯৩০
বাছাইপর্বের ম্যাচ সুইডেন-এস্তোনিয়া; ১৯৩৩
ড্র ম্যাচ ইতালি-স্পেন (১-১); ১৯৩৪
অতিরিক্ত সময়ে গড়ানাে ম্যাচ অস্ট্রিয়া-ফ্রান্স; ১৯৩৪
বাছাইপর্বে খেলা এশিয়ার দল ফিলিস্তিন; ১৯৩৪
আফ্রিকা থেকে অংশগ্রহণকারী দেশ মিসর; ১৯৩৪
বিশ্বকাপে সুযােগ পেয়েও অংশগ্রহণ করতে না পারা দেশ অস্ট্রিয়া; ১৯৩৮
এশিয়া থেকে অংশগ্রহণকারী দেশ ডাচ ইস্ট ইন্ডিজ (বর্তমান ইন্দোনেশিয়া); ১৯৩৮
টেলিভিশনে বিশ্বকাপ ফুটবল দেখানাে হয় ১৯৫৪ সালে
নিজ মহাদেশের বাইরে প্রথম চ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল; ১৯৫৮
গােল্ডেন গােল লরেন্ট ব্লাঙ্ক (ফ্রান্স); বিপক্ষ প্যারাগুয়ে; ১৯৯৮

ব্যক্তিগত রেকর্ড

  • সর্বাধিক বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী : অ্যান্টনিও কারবাজাল (মেক্সিকো), লােহার ম্যাথিউস (জার্মানি) এবং রাফায়েল মাকুয়েজ (মেক্সিকো); ৫টি
  • সর্বাধিকবার চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য : পেলে (ব্রাজিল); ৩ বার
  • সর্বাধিক ম্যাচে অংশগ্রহণকারী : লােথার ম্যাথিউস (জার্মানি); ২৫টি
  • সর্বাধিক ম্যাচে জয়ী খেলােয়াড় : কাফু (ব্রাজিল); ১৬টি
  • সর্বাধিকবার ফাইনালে অংশগ্রহণকারী : কাফু ব্রাজিল); ৩ বার
  • অধিনায়ক হিসেবে সর্বাধিক ম্যাচে অংশগ্রহণকারী : রাফায়েল মার্কুয়েজ (মেক্সিকো); ১৭টি
  • সর্বকনিষ্ঠ খেলােয়াড় : নর্মান হােয়াইটসাইড (উত্তর আয়ারল্যান্ড); ১৭ বছর ৪১ দিন
  • সর্বকনিষ্ঠ অধিনায়ক : টনি নিয়ােলা (যুক্তরাষ্ট্র); ২১ বছর ১০৯ দিন; ১৯৯০
  • বয়ােজ্যেষ্ঠ খেলােয়াড় : ফারিদ মনড্রাগন (কলম্বিয়া); ৪৩ বছর ৩ দিন; ২০১৪।

একমাত্র যা কিছু

  • বাছাইপর্ব ব্যতীত বিশ্বকাপ : ১৯৩০।
  • একমাত্র বিশ্বকাপ, যাতে পূর্ববর্তী বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দেশ অংশগ্রহণ করেনি : ১৯৩৪; উরুগুয়ে
  • একমাত্র বিশ্বকাপ, যাতে স্বাগতিক দেশকে বাছাইপর্ব পেরিয়ে চুড়ান্ত প্রতিযােগিতায় অংশগ্রহণ করতে হয় : ১৯৩৪; ইতালি
  • ওয়াকওভার পাওয়া দেশ : সুইডেন; বিপক্ষ অস্ট্রিয়া; ১৯৩৮
  • একমাত্র ফাইনালবিহীন বিশ্বকাপ : ১৯৫০
  • অপেশাদার ফুটবলারদের নিয়ে বিশ্বকাপ জয় করা দল : পশ্চিম জার্মানি; ১৯৫৪
  • বিশ্বকাপের ফাইনালে হ্যাটট্রিককারী : জিওফ হার্স্ট (ইংল্যান্ড); বিপক্ষ পশ্চিম জার্মানি; ১৯৬৬।

গােলের মাইলফলক

লুসিয়েন লরেন্থ (ফ্রান্স); বিপক্ষ মেক্সিকো; ১৯৩০
১০০ সিয়াভিও অ্যাঞ্জেলাে (ইতালি); বিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র, ১৯৩৪
৫০০ ববি কলিন্স (স্কটল্যান্ড); বিপক্ষ প্যারাগুয়ে; ১৯৫৮
১০০০ রব রয়সেনব্রিঙ্ক (নেদারল্যান্ডস); বিপক্ষ স্কটল্যান্ড; ১৯৭৮
১৫০০ ক্লডিও ক্যানিজিয়া (আর্জেন্টিনা); বিপক্ষ নাইজেরিয়া; ১৯৯৪
২০০০ মার্কাস আলবেক (সুইডেন); বিপক্ষ ইংল্যান্ড; ২০০৬
২৫০০ ফখরুদ্দিন বেন ইউসুফ (তিউনিসিয়া); বিপক্ষ পানামা; ২০১৮
২৫৪৮ (সর্বশেষ) মারিও মানজুকি (ক্রোয়েশিয়া); বিপক্ষ ফ্রন্স; ২০১৮

প্রচলন

  • বাছাইপর্ব চালু : ১৯৩৪
  • জার্সিতে নম্বর প্রথা চালু : ১৯৩৮
  • মাসকট প্রথা চালু : ১৯৬৬
  • ডােপ টেস্ট শুরু : ১৯৬৬
  • হলুদলাল কার্ড প্রদর্শন শুরু : ১৯৭০
  • সব খেলাতে বদলি খেলােয়াড় নামানাের প্রচলন : ১৯৭০
  • টাইব্রেকিং প্রথা চালু : ১৯৭৮
  • গােল লাইন টেকনােলজি ও ভ্যানিশিং স্প্রে চালু : ২০১৪
  • ভিডিও অ্যাসিস্টেন্ট রেফারি (VAR) চালু : ২০১৮।

দলীয় রেকর্ড

সর্বাধিক

অংশগ্রহণ :ব্রাজিল; ২১ বার চ্যাম্পিয়ন : ব্রাজিল; ৫ বার ও রানার্স আপ : জার্মানি; ৪ বার ফাইনালে অংশগ্রহণ : জার্মানি; ৮ বার ও ম্যাচ খেলেছে : ব্রাজিল ও জার্মানি; ১০৯টি করে জয় : ব্রাজিল; ৭৩টি + হার : মেক্সিকো; ২৭টি + ড্র : ইংল্যান্ড ও ইতালি; ২১টি ও সর্বাধিক গােল : করেছে- ব্রাজিল; ২২৯টি • খেয়েছেজার্মানি; ১২৫টি সবচেয়ে কম গােল খেয়েছে : অ্যাঙ্গোলা; ২টি । ফাইনালে সর্বাধিক সাক্ষাৎ: ৩ বার; আর্জেন্টিনা বনাম জার্মানি (১৯৮৬, ১৯৯০ ও ২০১৪)।

এক টুর্নামেন্ট

সর্বাধিক জয় :ব্রাজিল; ৭টি (২০০২) সর্বাধিক গােল করেছে : হাঙ্গেরি; ২৭টি (১৯৫৪)। সর্বাধিক গােল খেয়েছে : দক্ষিণ কোরিয়া; ১৬টি (১৯৫৪)।

স্ট্রিকস

টানা চ্যাম্পিয়ন : ইতালি (১৯৩৪ ও ১৯৩৮) এবং ব্রাজিল (১৯৫৮ ও ১৯৬২) ও টানা ফাইনাল ম্যাচ খেলেছে : ৩ বার; জার্মানি (১৯৮২-১৯৯০) ওব্রাজিল (১৯৯৪-২০০২) ও টানা রানার্স আপ : নেদারল্যান্ডস (১৯৭৪ ও ১৯৭৮) এবং জার্মানি (১৯৮২ ও ১৯৮৬) + টানা সর্বাধিক ম্যাচ জয় : ব্রাজিল; ১১টি – (২০০২-২০০৬) + টানা সর্বাধিক ম্যাচে অপরাজিত : ব্রাজিল; ১৩টি (১৯৫৮১৯৬৬) + টানা সর্বাধিক ম্যাচে হার : মেক্সিকো; ৯টি (১৯৩০-১৯৫৮)।

গােল

মােট গােল: ২৫৪৮টি। সর্বাধিক গােলদাতা : মিরােলভ ক্লোসা (জার্মানি); ১৬টি। এক টুর্নামেন্টে সর্বাধিক গােলদাতা : জাস্ট ফন্টেইন (ফ্রান্স); ১৩টি; ১৯৫৮। এক ম্যাচে সর্বাধিক ব্যক্তিগত গােল : ৫টি; ওলেগ সালেঙ্কো (রাশিয়া); বিপক্ষ ক্যামেরুন; ১৯৯৪ সর্বকনিষ্ঠ গােলদাতা : পেলে (ব্রাজিল, ১৯৫৮); ১৭ বছর ২৩৯ দিন; বিপক্ষ ওয়েলস বিয়ােজ্যেষ্ঠ গােলদাতা : রজার মিলা। (ক্যামেরুন, ১৯৯৪); ৪২ বছর ৩৯ দিন; বিপক্ষ রাশিয়া দ্রুততম গােলদাতা : হাকান সুকুর (তুরস্ক, ২০০২); ১১ সেকেন্ডে; বিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া। বিশ্বকাপ ফাইনালে বদলি খেলােয়াড় হিসেবে নেমে জয়সূচক গােল করা। প্রথম ফুটবলার : মারিও গােয়েৎজে (জার্মানি); বিপক্ষ আর্জেন্টিনা; ২০১৪।

আত্মঘাতী

মােট আত্মঘাতী গােল :৫২টি • প্রথম আত্মঘাতী গােল। ম্যানুয়েল রােজাস (মেক্সিকো); বিপক্ষ চিলি; ১৯৩০ • দ্রুততম আত্মঘাতী গােল : সিয়াদ কোলাসিনাচ (বসনিয়া); বিপক্ষ আর্জেন্টিনা; ২০১৪; খেলা শুরুর ৩ মিনিটে • সর্বাধিক আত্মঘাতী গােল : ২০১৮ সালে; ১২টি • ৫০তম আত্মঘাতী গােল করেন : সের্গেই ইগনাশেভিচ (রাশিয়া); বিপক্ষ স্পেন; ২০১৮ • প্রথম খেলােয়াড় হিসেবে ফাইনালে আত্মঘাতী গােল করেন : মারিও মানজুকিচ (ক্রোয়েশিয়া); বিপক্ষ ফ্রান্স; ২০১৮।

হ্যাটট্রিক

মােট হ্যাটট্রিক : ৫২টি। প্রথম হ্যাটট্রিককারী : বার্ট পাতেনাউদে (যুক্তরাষ্ট্র); ১৭ জুলাই ১৯৩০; বিপক্ষ প্যারাগুয়ে দ্রুততম হ্যাটট্রিককারী : এরিখ প্রবস্ট (অস্ট্রিয়া); ১৯৫৪; বিপক্ষ চেকোস্লোভাকিয়া। সর্বাধিক হ্যাটট্রিককারী : ২টি করে ৪ জন-স্যান্ডর ককসিস (হাঙ্গেরি, ১৯৫৪); জাস্ট ফন্টেইন (ফ্রান্স, ১৯৫৮); জার্ড মুলার (পশ্চিম জার্মানি, ১৯৭০) এবং গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা। (আর্জেন্টিনা, ১৯৯৪ ও ১৯৯৮)। হ্যাটট্রিকবিহীন বিশ্বকাপ : ২০০৬।

বিবিধ

সর্বাধিক ব্যবধানে জয় : হাঙ্গেরি (৯)-দক্ষিণ কোরিয়া (০), ১৯৫৪; যুগােস্লাভিয়া (৯)-জায়ারে (০), ১৯৭৪ ও হাঙ্গেরি (১০)-এল সালভেদর (১), ১৯৮২ • এক ম্যাচে সর্বাধিক গােল : ১২টি; অস্ট্রিয়া (৭)-সুইজারল্যান্ড (৫), ১৯৫৪ • ফাইনাল ম্যাচে সর্বাধিক গােল : ৭টি; ব্রাজিল (৫)-সুইডেন (২); ১৯৫৮ • টাইব্রেকারে নিষ্পত্তি হওয়া ম্যাচ: ৩১ টি।

জুলে রিমে ট্রফি

ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ১৯৩০ সালে ভিক্টোরি’ নামকরণ দিয়ে শুরু হলেও বিশ্বকাপ চালুর পর ট্রফিটি পরিচিত হয়ে উঠেছিল ‘ওয়ার্ল্ড কাপ’ বা ‘কোপে দ্যা মুন্ডে’র নামে। ১৯৪৬ সালে সেটা বিশ্বকাপ ফুটবলের অন্যতম রূপকার ও ফিফার ৩য় সভাপতি জুলে রিমের নামানুসারে। নামন্ত্রণ করা হয়। জুলে রিমেট্রফি। ১৯৬২ সালে বিশ্বকাপ শুরুর প্রায় চারমাস আগে ‘জুলে রিমে ট্রফিটি চুরি হয়ে যায়। ১৯ ডিসেম্বর ১৯৮৩ জুলে রিমে ট্রফি চিরকালের জন্য। হারিয়ে যায়।

  • নাম : জুলে রিমে
  • তৈরি : ১৯৩০
  • ওজন : ৩.৮ কেজি
  • উচ্চতা : ৩৫ সেন্টিমিটার
  • ভাস্কর : অ্যাবেল লাফ্লেউর, ফ্রান্স
  • নকশার মূল কথা : ডানা দিয়ে বিশ্বজয়।
  • জুলে রিমে ট্রফি বিজয়ীরা > উরুগুয়ে : ১৯৩০, ১৯৫০ • ইতালি : ১৯৩৪, ১৯৩৮ • জার্মানি : ১৯৫৪ • ইংল্যান্ড : ১৯৬৬ • ব্রাজিল : ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০।
  • উল্লেখ্য তিনবার বিশ্বকাপ জিতে তৎকালীন ফিফা নিয়মানুসারে জুলে রিমে ট্রফিটি চিরতরে নিয়ে যায় ব্রাজিল।

ফাইনাল কড়চা

মােট ফাইনাল : ২১টি নির্ধারিত সময়ে ফল নির্ধারণ : ১৪টি অতিরিক্ত সময়ে ফল নির্ধারণ : ৫টি (১৯৩৪, ১৯৬৬, ১৯৭৮, ২০১০ ও ২০১৪)। টাইব্রেকারে ফল নির্ধারণ : ২টি (১৯৯৪ ও ২০০৬)। ফাইনালের একমাত্র হ্যাটট্রিককারী : স্যার জিওফ হাস্ট (ইংল্যান্ড); ১৯৬৬; বিপক্ষ জার্মানি ফাইনালে একমাত্র আত্মঘাতী গােলদাতা : মারিও মানজুকি (ক্রোয়েশিয়া); ২০১৮; বিপক্ষ ফ্রান্স। অংশগ্রহণকারী মােট দল :১৩টি দুইটি ফাইনাল খেলা খেলােয়াড় : ৫০ জন। ৩টি ফাইনাল খেলা একমাত্র খেলােয়াড় : কাফু (ব্রাজিল) বয়ােজ্যেষ্ঠ খেলােয়াড় : দিনাে জফ (ইতালি); ১৯৮২; ৪২ বছর ১৩৩ দিন সর্বকনিষ্ঠ খেলােয়াড় : পেলে (ব্রাজিল); ১৯৫৮; ১৭ বছর ২৪৯ দিন। সর্বকনিষ্ঠ গােলদাতা : পেলে (ব্রাজিল); ১৯৫৮; ১৭ বছর ২৪৯ দিন। লালকার্ড প্রাপ্ত খেলােয়াড় : ৫ জন পেদ্রো মনজোন ও গুস্তাভাে দেজোত্তি (আর্জেন্টিনা); ১৯৯০; মার্সেল দেসাইলি (ফ্রান্স); ১৯৯৮; জিনেদিন জিদান (ফ্রান্স) ২০০৬ এবং জন হেইটিঙ্গা (নেদারল্যান্ডস); ২০১০ ফাইনালে সবচেয়ে বেশি। দেখা হয়েছে আর্জেন্টিনা ও জার্মানির; ৩ বার (১৯৮৬, ১৯৯০ ও ২০১৪) [ ফাইনালে সর্বোচ্চ ৩টি করে গােল করেন ৪ জন। জিওফ হাস্ট (ইংল্যান্ড), ভাভা (ব্রাজিল), পেলে (ব্রাজিল) ও জিনেদিন জিদান (ফ্রান্স)।

* ১৯৫০ সালে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয় লিগ পদ্ধতিতে। ব্রাজিল ও উরুগুয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত লিগের সর্বশেষ খেলা শিরােপা নির্ধারণী হওয়ায় ফাইনাল হিসেবে ধরা হয়।

কোচ কর্নার

সর্বাধিক চ্যাম্পিয়ন : ভিট্টরিও পুজো (ইতালি, ১৯৩৪-১৯৩৮); ২ বার সর্বাধিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী : কার্লোস আলবার্তো পেরেইরা (ব্রাজিল); ৬ বার ০ সর্বাধিক দেশের কোচ হিসেবে বিশ্বকাপে চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণকারী : বােরা মিলােটিনােভিচ (যুগােশ্লাভিয়া); ৫টি ও খেলােয়াড় ও কোচ হিসেবে চ্যাম্পিয়ন : ৩ জন মারিও জাগালাে (ব্রাজিল), ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার (জার্মানি) ও দিদিয়ের দেশম (ফ্রান্স)। এর মধ্যে দেশম ও বেকেনবাওয়ার অধিনায়ক ও কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জিতেন।

বিশ্বকাপে তিন কিংবদন্তি

ক্যাটাগরি পেলে ম্যারাডােনা জার্ড মুলার
অভিষেক ১৯৫৮ ১৯৮২ ১৯৭০
অংশগ্রহণ ৪ (১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৬৬ ও ১৯৭০ ) ৪ (১৯২, ১৯৮৬, ১৯৯০ ও ১৯৯৪) ২ (১৯৭০ ও ১৯৭৪)
বিশ্বকাপ জয় ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০ ১৯৮৬ ১৯৭৪
মােট ম্যাচ ১৪ ২১ ১৩
ফাইনালে গোল
মােট গােল ১২ ১৪

এক নজরে বিশ্বকাপ ফুটবল

ফাইনাল : ২১টি • স্বাগতিক দেশ : ১৭টি • অংশগ্রহণকারী দেশ : ৭৯টি • চ্যাম্পিয়ন দেশ : ৮টি • মােট ম্যাচ : ৯০০টি।

আয়োজন সাল স্বাগতিক দল ম্যাচ গােল চ্যাম্পিয়ন রানার্স আপ জয়ী অধিনায়ক
১ম ১৯৩০ উরুগুয়ে ১৩ ১৮ ৭০ উরুগুয়ে আর্জেন্টিনা জেসে নাসাজি
২য় ১৯৩৪ ইতালি ১৬ ১৭ ৭০ ইতালি চেকোস্লোভাকিয়া সিয়েম্পিরাে কম্বি
৩য় ১৯৩৮ ফ্রান্স ১৫ ১৮ ৮৪ ইতালি হাঙ্গেরি জিওসেপ্পো মিয়াজ্জা
৪র্থ ১৯৫০ ব্রাজিল ১৩ ২২ ৮৮ উরুগুয়ে ব্রাজিল আবদুলিও ভারেলা
৫ম ১৯৫৪ সুইজারল্যান্ড ১৬ ২৬ ১৪০ পশ্চিম জার্মানি হাঙ্গেরি ফ্রিৎজ ওয়াল্টার
৬ষ্ঠ ১৯৫৮ সুইডেন ১৬ ৩৫ ১২৬ ব্রাজিল সুইডেন হিলদেরালদো ভেল্লিনি
৭ম ১৯৬২ চিলি ১৬ ৩২ ৮৯ ব্রাজিল চেকোস্লোভাকিয়া মাউরাে রামোস
৮ম ১৯৬৬ ইংল্যান্ড ১৬ ৩২ ৮৯ ইংল্যান্ড পশ্চিম জার্মানি ববি মুর
৯ম ১৯৭০ মেক্সিকো ১৬ ৩২ ৯৫ ব্রাজিল ইতালি কার্লোস আলবার্তো টোরেস
১০ম ১৯৭৪ পশ্চিম জার্মানি ১৬ ৩৮ ৯৭ পশ্চিম জার্মানি নেদারুল্যান্ডস ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার
১১তম ১৯৭৮ আর্জেন্টিনা ১৬ ৩৮ ১০২ আর্জেন্টিনা নেদারল্যান্ডস ড্যানিয়েল প্যাসারাে
১২তম ১৯৮২ স্পেন ২৪ ৫২ ১৪৬ ইতালি পশ্চিম জার্মানি দিনো জফ
১৩তম ১৯৮৬ মেক্সিকো ২৪ ৫২ ১৩২ আর্জেন্টিনা পশ্চিম জার্মানি দিয়েগো ম্যারাডোনা
১৪তম ১৯৯০ ইতালি ২৪ ৫২ ১১৫ পশ্চিম জার্মানি আর্জেন্টিনা লােথার ম্যাথিউস
১৫তম ১৯৯৪ যুক্তরাষ্ট্র ২৪ ৫২ ১৪১ ব্রাজিল ইতালি কার্লোস দুঙ্গা
১৬তম ১৯৯৮ ফ্রান্স ৩২ ৬৪ ১৭১ ফ্রান্স ব্রাজিল দিদিয়ের দেশম
১৭তম ২০০২ জাপান ও দ. কোরিয়া ৩২ ৬৪ ১৬১ ব্রাজিল জার্মানি কাফু
১৮তম ২০০৬ জার্মানি ৩২ ৬৪ ১৪৭ ইতালি ফ্রান্স ফ্যাবিও ক্যানাভারাে
১৯তম ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা ৩২ ৬৪ ১৪৫ স্পেন নেদারল্যান্ডস ইকার ক্যাসিয়াস
২০তম ২০১৪ ব্রাজিল ৩২ ৬৪ ১৭১ জার্মানি আর্জেন্টিনা ফিলিপ লাম
২১৩ম ২০১৮ রাশিয়া ৩২ ৬৪ ১৬৯ ফ্রান্স ক্রোয়েশিয়া হুগো লরিস

Md. Mahabub Alam

I am a committed educator, blogger and YouTuber and I am striving to achieve extraordinary success in my chosen field. After completing Masters in Anthropology from Jagannath University, I am working as Chief Accounts Officer in a national newspaper of the country. I really want your prayers and love.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button